১ম প্রবন্ধ(We Shall Overcome)
সাথে থাকুন, 'সাত'-এও থাকুন
১ম প্রবন্ধ, তারিখ- 23/04/2020
লেখিকা- অর্পিতা ঘোষ
সকলের তরে সকলে আমরা,
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে...
---ছোটোবেলায় পড়া ছড়ার লাইনের বাস্তবিক প্রতিফলন দেখা গেল মানকরের সুমন্ত-কুহেলীদের উদ্যোগে।
করনা মোকাবিলায় সারা দুনিয়া যখন সামাজিক দূরত্বে ব্যস্ত, তখনই মানকরের পৃথা-তন্ময়রা বাড়িয়ে দিল হাত, দুস্থদের প্রতি।
ছোঁয়াছুঁয়ি বারণ কিন্তু বাধা নেই ভালোবাসায়।
তাই, মাস্ক,স্যানিটাইজার সহ 'সামাজিক দূরত্ব' এর সমস্ত নিয়ম মেনে তারা সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে কর্মহীন দিনগুলিতে খেটে খাওয়া মানুষগুলো অভুক্ত না থাকে।
খবরের কাগজ খুললেই মুখভার। একদিকে করোনা আতঙ্ক অন্যদিকে নিত্যনৈমিত্তিক চোখে পড়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের করুণ কাহিনী।
ছাদে উঠে রাস্তার দিকে চোখ গেলেই বিষণ্ণ হয়ে যেতে হয়, কাজকরা মানুষগুলোর শুকনো মুখ দেখে।
এরকমই এক পরিস্থিতিতে, মানকরের রূপা,সৌভিক,অপর্ণারা সাত-পাঁচ না ভেবেই, একদিন
সাতসকালে বেড়িয়ে পড়ে ,পূর্ণ উদ্যমে। ওদের যে কাজ করতে হবে, মানুষের পাশে থাকার কাজ।
কর্মহীন এইসব দুস্থ মানুষগুলোকে,অন্ততপক্ষে সাতদিন বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে তারা ।
এই উদ্যোগকে সফল করতে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই সাড়া মিলেছে ভালোরকম। তরুণ-তরুণীদের এই উদ্যোগে পাশে দাঁড়িয়েছে যুবক থেকে পৌঢ় অনেকেই। ওদের সবার কথায়, " ওঁরা ছাড়া আমরা অসম্পূর্ণ। এইভাবে সকলকে পাশে না পেলে, মানুষগুলোকে সাহায্যের কথা ভাবতেও পারতাম না।"
কে বলতে পারে, সাতটা দিনের সাথে থাকার এই প্রচেষ্টা হয়ত সাতসমুদ্র-তেরো নদী পেরিয়ে ঘরে ফিরে আসা অন্তত সাতজনের মুখেও অন্ন তুলে দিল।
কে বলতে পারে, আরও নয়,আরও নয় যোগ হতে হতে
ওদের নয় জনের দ্বারা শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টা, নয়-নয় করেই পৌঁছে গেল ন'শো মানুষের কাছে!
ওদের সাথে সুর মিলিয়ে আপনিও বলুন না, "আয় তবে সহচরী, হাতে হাত ধরি-ধরি"...
স্পর্শ করা মানা; তাই হাত মেলানোয় ঝুঁকি আছে বলে, মানবিকতার হাত বাড়াতে দ্বিধা রেখো না যেন!
![]() |
| Add caption |

Very sweet and simple writing all the best
ReplyDelete